বৌদ্ধ ঐতিহ্যের নতুন দিগন্ত: নন্দনকানন গোল চত্বরে ড. জিনবোধি মহাথেরোর প্রচেষ্টায় নির্মিত হচ্ছে নান্দনিক "পদ্মফুল ভাস্কর্য"
টেলিগ্রাফ বিশেষ প্রতিবেদন:
চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত নন্দনকানন এলাকায় অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার। এই ঐতিহাসিক স্থাপনার সম্মুখভাগের গোল চত্বরটি এবার এক নতুন রূপে সাজতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে এখানে স্থাপিত হতে যাচ্ছে বৌদ্ধ কৃষ্টি ও সংস্কৃতির চিরন্তন প্রতীক—একটি বিশালাকার নান্দনিক পদ্মফুল ভাস্কর্য।
এই ভাস্কর্য স্থাপনের নেপথ্যে রয়েছে একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট বৌদ্ধ পন্ডিত ও চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. জিনবোধি মহাথেরোর দীর্ঘদিনের নিরলস প্রচেষ্টা। ২০২৪ সাল থেকেই তিনি বুদ্ধমন্দির সড়কের এই চত্বরটিতে বৌদ্ধ সংস্কৃতির ধারক কোনো স্মারক নির্মাণের জন্য চসিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন।
তার এই দূরদর্শী চিন্তার লক্ষ্য ছিল চট্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং হাজার বছরের বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের সামনে মূর্ত করে তোলা।
গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাৎ হোসেন এই ভাস্কর্য নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদানের মাধ্যমে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন শুরু করলেন।
মেয়রের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের পথে পদক্ষেপ
সম্প্রতি এক বৈঠকে মেয়র ডা. শাহাদাৎ হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য যে, বিগত ২০২৫ সালের দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই ভাস্কর্যটি অচিরেই প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে এই আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে।
উক্ত বৈঠকে ড. জিনবোধি মহাথেরোর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ২০২৫ সালের কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু অনিল কান্তি বড়ুয়া।
বৌদ্ধ দর্শনে পদ্মফুল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি পবিত্রতা, জ্ঞান এবং নির্বাণের প্রতীক। কাদা ও পানির নিচ থেকে জন্ম নিয়েও যেভাবে পদ্ম তার সৌন্দর্য ও শুভ্রতা বজায় রাখে, তা মানুষের আধ্যাত্মিক জাগরণকে নির্দেশ করে। চট্টগ্রামের প্রধান বৌদ্ধ বিহারের সামনে এই ভাস্কর্যটি কেবল একটি স্থাপত্য নয়, বরং এটি শান্তি ও মৈত্রীর এক বিশ্বজনীন বার্তা বহন করবে।
চট্টগ্রামের প্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহ্যের দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ ও
নান্দনিক নকশার কারণে এটি শহরের একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানে পরিণত হবে।
চট্টগ্রামের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে এই ভাস্কর্য।
কর্মযোগী ড. জিনবোধি মহাথেরোর এই অনন্য কৃতিত্ব চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। তার এই প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করার জন্য সমগ্র বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সিটি মেয়রকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
#bangladeshtelegraph
#Chattogram #BuddhistHeritage #LotusSculpture #DrJinbodhiMahathero #Nandankanan #Peace #Tradition #ChittagongCityCorporation
মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।