প্রতিবেদক - | মঙ্গলবার, ২০২৫ জুলাই ২৯, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
ভুয়া র‍্যাবকে ধাওয়া দিয়ে ধরল আসল র‍্যাব
ভুয়া র‍্যাবকে ধাওয়া দিয়ে ধরল আসল র‍্যাব

ভুয়া র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০।

ফরিদপুরের নগরকান্দায় অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ী এবং ভুয়া র‌্যাব চক্রের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও একটি মাইক্রোবাস।

আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- দিদার (২৯), মো. সাইফুল ইসলাম (৩০), মিন্টু গাজী (৪৫), মো. জামিল (৩২) এবং স্বপন খান (৪৫)। 

এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ৪টি ‘র‌্যাব’ লেখা জ্যাকেট, ৩টি র‌্যাব ক্যাপ, ২ জোড়া হাতকড়া, ১টি স্টেনগান, ১টি পিস্তল সদৃশ গ্যাস লাইট, ২টি ওয়াকি-টকি সেট, ১টি পিস্তল কাভার, মোবাইল ফোন এবং একটি মাইক্রোবাস।

তিনি জানান, ভুক্তভোগী জয়দেব আধ্য (৫৩) ও বিশ্বনাথ আধ্য (৫৭) সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। তারা রাজধানীর তাঁতীবাজার থেকে জুয়েলারি তৈরির যন্ত্রাংশ কিনে সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসে করে সাতক্ষীরার উদ্দেশে রওনা দেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দার জয়বাংলা মোড়ে পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাস র‌্যাব পরিচয়ে বাসটি থামিয়ে দেয়। মাইক্রোবাস থেকে র‌্যাব লেখা জ্যাকেট পরা ৩-৪ জন ব্যক্তি বাসে উঠে দুই ভাইকে জোরপূর্বক নামিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এরপর তাদের চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পাশাপাশি ছিনিয়ে নেওয়া হয় তাদের সঙ্গে থাকা নগদ ২,৭০০ টাকা ও কেনা যন্ত্রাংশ।

র‌্যাব-১০ এর একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ডাকাতি ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে এবং অপহৃত দুই ভাইকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। অভিযানের সময় সাইফুল ইসলাম ও স্বপন খান পালানোর চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাদের ধরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। পরে র‌্যাব সদস্যরা তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার দিদারের বিরুদ্ধে রয়েছে ৮টি মামলা, মিন্টু গাজীর বিরুদ্ধে ৩টি, সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩টি, জামিলের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং স্বপন খানের বিরুদ্ধে রয়েছে চুরি, ডাকাতি, অস্ত্র ও ৪টি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১০ অধিনায়ক কামরুজ্জামান বলেন, বাসে ভ্রমণের সময় যাত্রা শুরু ও গন্তব্যস্থলে ভিডিও ধারণ বা সিসিটিভি স্থাপন করলে এ ধরনের অপরাধ রোধ করা সম্ভব। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কেউ সন্দেহজনক আচরণ করলে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ নম্বরে কল করতে হবে অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 

মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।