প্রতিবেদক - | বৃহস্পতিবার, ২০২৬ জানুয়ারী ০৮, ১১:৪১ অপরাহ্ন
কর্ণফুলী রক্ষায় ৭ দিনের আল্টিমেটাম, উচ্ছেদ না হলে প্রশাসন ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
কর্ণফুলী রক্ষায় ৭ দিনের আল্টিমেটাম, উচ্ছেদ না হলে প্রশাসন ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

কর্ণফুলী রক্ষায় ৭ দিনের আল্টিমেটাম, উচ্ছেদ না হলে প্রশাসন ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
                       
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের 'অর্থনীতির হৃদপিণ্ড' কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়কে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে পরিবেশবাদী ৭টি সংগঠন ও চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনেরা।
গত ৯ নভেম্বর রবিবার সকালে নগরীর চেরাগি পাহাড় চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এই কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংগঠনগুলো ঘোষণা দিয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা না হলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। তাতেও কাজ না হলে কর্ণফুলী নদীর উৎসমুখ অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুমকি দেন বক্তারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম নগরের ৭০ লক্ষ মানুষের একমাত্র সুপেয় পানির উৎস এই কর্ণফুলী নদী। এর দুইপাশ দখল করে ভূমিদস্যুরা যে অবৈধ স্থাপনা ও বসতি গড়ে তুলেছে, তা উচ্ছেদ করা এখন সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিৎ।
তারা জোর দিয়ে বলেন, "কর্ণফুলী নদী বাঁচলে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বাঁচবে, ব্যবসা-বাণিজ্য বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।"
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দখলদারদের পক্ষে রাজনৈতিক ক্ষমতাধর আইনজীবীরা মামলা লড়ার কারণে কর্ণফুলী দখল উচ্ছেদ প্রক্রিয়া ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ দীর্ঘ ১৫ বছর বিলম্বিত হয়েছে। বর্তমানে মামলার রায় দখলদারদের বিপক্ষে গেলেও এবং উচ্ছেদে আর কোনো আইনি বাধা না থাকলেও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন 'নির্লিপ্ত' ভূমিকা পালন করছে।
চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মীর্জা ইসমাইল বলেন, "কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। যারা ক্ষমতার ছায়াতলে থেকে দেশের সম্পদ লুট করছে বা সহযোগিতা করছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।"
এই মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলো হলো— চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র এবং ভোরের আলো।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চ্যানেল আই চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান, বেলা চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট সংকেত দেব, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এ পেয়ার আলী এবং ভোরের আলো'র প্রতিষ্ঠাতা মো. শফিকুল ইসলাম খানসহ অন্যান্য পরিবেশ সংগঠক ও নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।