প্রতিবেদক - | বৃহস্পতিবার, ২০২৬ জানুয়ারী ০৮, ০৯:২৫ অপরাহ্ন
সংকটে চট্টগ্রাম রেলওয়ে: যাত্রী ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র বাড়ছে
সংকটে চট্টগ্রাম রেলওয়ে: যাত্রী ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র বাড়ছে

সংকটে চট্টগ্রাম রেলওয়ে: যাত্রী ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র বাড়ছে 

অসীম বিকাশ বড়ুয়া, চট্টগ্রাম 

দেশের অন্যতম প্রধান গণপরিবহন মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম রেলওয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। টিকিট সংকট থেকে শুরু করে ইঞ্জিনের অপ্রতুলতা, শিডিউল বিপর্যয় এবং অবকাঠামোগত ঝুঁকির কারণে যাত্রীরা নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এসব সমস্যা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে, যা রেলওয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
১. টিকিট কালোবাজারি ও দুর্নীতির জাল
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কালোবাজারি একটি পুরোনো সমস্যা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এর মাত্রা আরও বেড়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে রেলওয়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা সাধারণ যাত্রীদের জন্য টিকিট সহজলভ্য না রেখে তা বেশি দামে কালোবাজারে বিক্রি করছে। এর ফলে যাত্রীরা প্রায়ই টিকিট কিনতে ব্যর্থ হন এবং অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে টিকিট কিনতে বাধ্য হন।
২. ইঞ্জিন সংকট ও শিডিউল বিপর্যয়
চট্টগ্রাম রেলওয়েতে ইঞ্জিন সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। চাহিদার তুলনায় সচল ইঞ্জিনের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় প্রায়শই ট্রেন চলাচল বাতিল করা হচ্ছে অথবা দীর্ঘ বিলম্বের শিকার হচ্ছে। এর ফলে শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ইঞ্জিনের অভাবে অনেক কনটেইনার বন্দর ইয়ার্ডে আটকা পড়ে আছে, যা দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
৩. অবকাঠামোগত ঝুঁকি ও দুর্ঘটনা
রেলওয়ের জরাজীর্ণ লাইন এবং দুর্বল অবকাঠামো একটি বড় উদ্বেগের কারণ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনেও পাহাড়ি ঢলের কারণে মাটি সরে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। এছাড়া, কালুরঘাট সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিগন্যাল অমান্য করে ট্রেন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে, যেখানে চালকের অসতর্কতা ও অব্যবস্থাপনা দায়ী বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই ধরনের ঘটনাগুলো যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
৪. জনবল সংকট ও কর্মবিরতি
রেলওয়ের বিভিন্ন পদে বিপুল সংখ্যক জনবল সংকট রয়েছে। বিশেষ করে, রানিং স্টাফ এবং স্টেশন মাস্টার পদে পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে আছে। জনবল সংকটের কারণে প্রায়ই রেলওয়ে কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করেন, যার ফলে হঠাৎ করেই ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। যাত্রীদের অভিযোগ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আগাম কোনো ঘোষণা দেয় না, ফলে যাত্রীরা স্টেশনে এসে আটকা পড়েন।

চট্টগ্রাম রেলওয়ের এই সমস্যাগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং একটি সমন্বিত অব্যবস্থাপনার প্রতিফলন। টিকিট কালোবাজারি, ইঞ্জিন সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং জনবল সংকটের কারণে যাত্রীরা তাদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সংকট সমাধানে কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, অন্যথায় রেলওয়ের প্রতি যাত্রীদের আস্থা আরও কমবে এবং দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে থাকবে।

মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।