বেতাগীতে আধ্যাত্মিক জোয়ার: পর পূজ্য শীলানন্দ মহাস্থবিরের (ধুতাঙ্গ ভান্তে) ৪৯তম জন্মজয়ন্তী ও ভূমিদান মহোৎসব
বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ডেস্ক:
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রাচীন বৌদ্ধ জনপদ বেতাগী এখন ভক্তি ও উৎসবের নগরী। কর্ণফুলীর কলতান আর পাহাড়ের নিভৃত ছায়ায় ঘেরা 'বনাশ্রম ভাবনা কুঠির'-এ উদযাপিত হচ্ছে বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোকিত সাংঘিক ব্যক্তিত্ব, পরম পূজনীয় ভদন্ত শীলানন্দ মহাস্থবির (ধুতাঙ্গ ভান্তে) মহোদয়ের ৪৯তম শুভ জন্মজয়ন্তী।
এই উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী (২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর) আধ্যাত্মিক মহোৎসবে যোগ দিয়েছেন দেশ-বিদেশের হাজারো পুণ্যার্থী। এবারের উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল ধুতাঙ্গ ভান্তের স্থায়ী আবাস ও সদ্ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে ১৪ কানি পাহাড়ী ভূমি দান এবং তাঁর মুখনিঃসৃত একক সদ্ধর্মদেশনা।
গানে গানে কৃতজ্ঞতা ও বন্দনা
জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ টেলিভিশন (ঢাকা)-এর তালিকাভুক্ত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জুসি বড়ুয়া ও রিতু বড়ুয়া ভান্তের চরণে গানে গানে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন। ১৬তম ভান্তে ভদন্ত আত্মদ্বীপ ভিক্ষুর কথা ও সুরে এবং সব্যসাচী রনির সংগীতায়োজনে এই বন্দনা গীতি উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গানের ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে একজন জীবন্ত আর্যসাধকের প্রতি ভক্তদের গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।
উৎসবের বিশেষ দিকসমূহ:
ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও অভ্যর্থনা: ২৫ ডিসেম্বর বুদ্ধ মহাধাতু চৈত্য থেকে এক বিশাল শোভাযাত্রার মাধ্যমে ভান্তেকে বরণ করে নেওয়া হয়। আতশবাজি ও ধর্মীয় বাদ্যে মুখরিত হয় গুমাইবিল এলাকা।
ভূমিদান মহোৎসব: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধ্যান-সাধনার জন্য বনাগ্রাম সংলগ্ন প্রায় ১৪ কানি পাহাড়ী জমি ক্রয় করে বিহারের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, যা বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারে এক মাইলফলক।
আধ্যাত্মিক পরিবেশ: সন্ধ্যায় পবিত্র 'ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র' পাঠ এবং রাতে আকাশে শত শত ফানুস উড্ডয়ন এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে।
সদ্ধর্মদেশনা: ২৬ ডিসেম্বর ভান্তের একক দেশনা শুনতে ভিড় জমান চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষ।
আলোকবর্তিকা শীলানন্দ মহাস্থবির
১৯৭৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সোনাইছড়ির এক সম্ভ্রান্ত বড়ুয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই মহাপুরুষ। পিতা হেমরঞ্জন বড়ুয়া ও মাতা নীলু প্রভা বড়ুয়ার এই সন্তান আজ তাঁর কঠোর তপোবল ও ধুতাঙ্গ সাধনার মাধ্যমে বৌদ্ধ সমাজের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত 'বনাশ্রম ভাবনা কুঠির' আজ তাঁরই নির্দেশনায় আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আয়োজকদের বক্তব্য
বনাশ্রম ভাবনা কুঠিরের বিহারাধ্যক্ষ পরম পূজ্য জ্ঞানময় স্থবির (২৪তম ভান্তে) জানান, "এই আয়োজন কেবল একটি উৎসব নয়, এটি বুদ্ধের আদর্শ ও ত্যাগকে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রয়াস। ধুতাঙ্গ ভান্তের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যই আমাদের একমাত্র প্রার্থনা।"
একুশ শতকের অস্থির সময়ে শীলানন্দ মহাস্থবিরের মৈত্রী ও করুণার বাণী শান্তিপ্রিয় মানুষের মনে নতুন আশার আলো সঞ্চার করছে। অনুষ্ঠান শেষে সমবেত হাজারো ভক্তের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়— "সাধু, সাধু, সাধু!"
#shilanandha #banladeshtelegraph
মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।