প্রতিবেদক - | বৃহস্পতিবার, ২০২৬ জানুয়ারী ০১, ১১:৫৫ অপরাহ্ন
বেতাগীতে আধ্যাত্মিক জোয়ার: পর পূজ্য শীলানন্দ মহাস্থবিরের (ধুতাঙ্গ ভান্তে) ৪৯তম জন্মজয়ন্তী ও ভূমিদান মহোৎসব
বেতাগীতে আধ্যাত্মিক জোয়ার: পর পূজ্য শীলানন্দ মহাস্থবিরের (ধুতাঙ্গ ভান্তে) ৪৯তম জন্মজয়ন্তী ও ভূমিদান মহোৎসব

বেতাগীতে আধ্যাত্মিক জোয়ার: পর পূজ্য শীলানন্দ মহাস্থবিরের (ধুতাঙ্গ ভান্তে) ৪৯তম জন্মজয়ন্তী ও ভূমিদান মহোৎসব

​বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ডেস্ক:

​চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রাচীন বৌদ্ধ জনপদ বেতাগী এখন ভক্তি ও উৎসবের নগরী। কর্ণফুলীর কলতান আর পাহাড়ের নিভৃত ছায়ায় ঘেরা 'বনাশ্রম ভাবনা কুঠির'-এ উদযাপিত হচ্ছে বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোকিত সাংঘিক ব্যক্তিত্ব, পরম পূজনীয় ভদন্ত শীলানন্দ মহাস্থবির (ধুতাঙ্গ ভান্তে) মহোদয়ের ৪৯তম শুভ জন্মজয়ন্তী।

​এই উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী (২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর) আধ্যাত্মিক মহোৎসবে যোগ দিয়েছেন দেশ-বিদেশের হাজারো পুণ্যার্থী। এবারের উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল ধুতাঙ্গ ভান্তের স্থায়ী আবাস ও সদ্ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে ১৪ কানি পাহাড়ী ভূমি দান এবং তাঁর মুখনিঃসৃত একক সদ্ধর্মদেশনা।

​গানে গানে কৃতজ্ঞতা ও বন্দনা

​জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ টেলিভিশন (ঢাকা)-এর তালিকাভুক্ত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জুসি বড়ুয়া ও রিতু বড়ুয়া ভান্তের চরণে গানে গানে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন। ১৬তম ভান্তে ভদন্ত আত্মদ্বীপ ভিক্ষুর কথা ও সুরে এবং সব্যসাচী রনির সংগীতায়োজনে এই বন্দনা গীতি উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গানের ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে একজন জীবন্ত আর্যসাধকের প্রতি ভক্তদের গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।

​উৎসবের বিশেষ দিকসমূহ:

​ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও অভ্যর্থনা: ২৫ ডিসেম্বর বুদ্ধ মহাধাতু চৈত্য থেকে এক বিশাল শোভাযাত্রার মাধ্যমে ভান্তেকে বরণ করে নেওয়া হয়। আতশবাজি ও ধর্মীয় বাদ্যে মুখরিত হয় গুমাইবিল এলাকা।

​ভূমিদান মহোৎসব: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধ্যান-সাধনার জন্য বনাগ্রাম সংলগ্ন প্রায় ১৪ কানি পাহাড়ী জমি ক্রয় করে বিহারের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, যা বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারে এক মাইলফলক।

​আধ্যাত্মিক পরিবেশ: সন্ধ্যায় পবিত্র 'ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র' পাঠ এবং রাতে আকাশে শত শত ফানুস উড্ডয়ন এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে।

​সদ্ধর্মদেশনা: ২৬ ডিসেম্বর ভান্তের একক দেশনা শুনতে ভিড় জমান চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষ।

​আলোকবর্তিকা শীলানন্দ মহাস্থবির

​১৯৭৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সোনাইছড়ির এক সম্ভ্রান্ত বড়ুয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই মহাপুরুষ। পিতা হেমরঞ্জন বড়ুয়া ও মাতা নীলু প্রভা বড়ুয়ার এই সন্তান আজ তাঁর কঠোর তপোবল ও ধুতাঙ্গ সাধনার মাধ্যমে বৌদ্ধ সমাজের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত 'বনাশ্রম ভাবনা কুঠির' আজ তাঁরই নির্দেশনায় আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

​আয়োজকদের বক্তব্য

​বনাশ্রম ভাবনা কুঠিরের বিহারাধ্যক্ষ পরম পূজ্য জ্ঞানময় স্থবির (২৪তম ভান্তে) জানান, "এই আয়োজন কেবল একটি উৎসব নয়, এটি বুদ্ধের আদর্শ ও ত্যাগকে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রয়াস। ধুতাঙ্গ ভান্তের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যই আমাদের একমাত্র প্রার্থনা।"

​একুশ শতকের অস্থির সময়ে শীলানন্দ মহাস্থবিরের মৈত্রী ও করুণার বাণী শান্তিপ্রিয় মানুষের মনে নতুন আশার আলো সঞ্চার করছে। অনুষ্ঠান শেষে সমবেত হাজারো ভক্তের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়— "সাধু, সাধু, সাধু!"

#shilanandha #banladeshtelegraph 

মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।