প্রবাসের বুকে এক মানবিক ফেরিওয়ালা: সবুজ বড়ুয়ার অদম্য জীবনগল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক | সময়কাল: ২০২৬
প্রবাস জীবনের কঠোর বাস্তবতা আর পরবাসের যান্ত্রিকতার মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে থাকেন অন্যের জন্য। তারা শুধু নিজের ভাগ্য বদলান না, বরং হাজারো মানুষের অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে ওঠেন। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নিভৃত গ্রাম থেকে উঠে আসা এমনই এক লড়াকু সৈনিকের নাম সবুজ বড়ুয়া। তাঁর পিতা সুধীর বড়ুয়া ও মাতা ঝর্না বড়ুয়া এবং চার ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তান।আজ তিনি কেবল ইতালির এক সফল প্রবাসী নন, বরং বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক মানবিক চেতনার নাম।
শূন্য থেকে শিখরে: দুবাইয়ের সেই ১৪ বছর
সবুজ বড়ুয়ার জীবনসংগ্রাম শুরু হয় মাত্র ২০ বছর বয়সে। ফটিকছড়ির আব্দুল্লাপুর গ্রামের আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা এই তরুণ কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পাড়ি জমান মরুশহর দুবাইয়ে। সেখানে দীর্ঘ ১৪ বছর তিনি 'দুবাই বাগদাদ ইলেকট্রিশিয়ান কোম্পানির' প্রধান তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু তাঁর পরিচয় শুধু পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; দুবাই প্রবাসীদের যেকোনো বিপদে-আপদে তিনি ছিলেন প্রথম সারির ত্রাণকর্তা।
ইতালির হাতছানি ও নতুন সংগ্রাম:
দুবাইয়ের সফল অধ্যায় শেষ করে সবুজ বড়ুয়া বর্তমানে ইতালির মাটিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন। একটি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকেও তিনি ভুলে যাননি নিজের শেকড়কে। পরবাসের ব্যস্ত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি উৎসর্গ করেছেন আর্তমানবতার সেবায়। ইতালির বাঙালি কমিউনিটিতে তিনি এখন এক আস্থার প্রতীক।
আধ্যাত্মিক গুরু ও সুরের মূর্ছনা:
সবুজ বড়ুয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে প্রখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষু ডক্টর এফ দীপঙ্কর মহাথের সান্নিধ্যে। গুরুর দর্শন তাঁকে শিখিয়েছে অহিংসা আর পরোপকার। গুরুর প্রয়াণের পর তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবুজ বড়ুয়া রচনা করেন কালজয়ী গান— "লক্ষ লক্ষ মানুষের অশ্রু তোমার সমাধিতে"। গানটি আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এবং হাজারো ভক্তের হৃদয়ে কান্নার সুর হয়ে বাজে। একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান থেকে একজন সংবেদনশীল গীতিকার ও শিল্পী হয়ে ওঠার এই যাত্রা সত্যিই বিস্ময়কর।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ধর্মের আলো:
সবুজ বড়ুয়া প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
বুদ্ধধর্ম বুদ্ধধর্ম এই পেজের অ্যাডমিন হিসেবে তিনি হাজার হাজার মানুষকে শান্তির বাণী শোনাচ্ছেন।
বুদ্ধিস্ট টিভিবিডি: বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এই চ্যানেলের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তিনি গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির বিকাশে বড় অবদান রাখছেন।
ডাঃ বেণী-মায়া ফাউন্ডেশন: নিজ মাতামহের স্মৃতি রক্ষার্থে এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে পিছিয়ে পড়া মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসায় কাজ করছেন।
পারিবারিক বন্ধন ও অনুপ্রেরণা:
সবুজ বড়ুয়ার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে একটি সুশিক্ষিত পরিবারের সমর্থন। তাঁর স্ত্রী কেমিলি বড়ুয়া একজন আদর্শ শিক্ষিকা হিসেবে মানুষ গড়ার কারিগর। দুই সন্তানের জনক সবুজ বড়ুয়া প্রমাণ করেছেন, সুশৃঙ্খল পারিবারিক জীবনই একজন মানুষের সামাজিক ও আন্তর্জাতিক সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
"জীবন মানে শুধু নিজের জন্য বেঁচে থাকা নয়, জীবন মানে অন্যের চোখের জল মোছানো এবং নিজের কর্মের মাধ্যমে অমর হয়ে থাকা।"
সবুজ বড়ুয়ার জীবনদর্শন:
সবুজ বড়ুয়ার জীবন আমাদের শেখায় যে, সদিচ্ছা থাকলে সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে থেকেও দেশের সেবা করা সম্ভব। তিনি কেবল ইতালির প্রবাসী নন, তিনি আমাদের জাতীয় সম্পদ। তাঁর এই মানবিক পথচলা আগামী প্রজন্মের প্রবাসীদের জন্য চিরকাল আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।
#SabujBarua #InspiringStory #Humanity #BangladeshToItaly #SuccessStory #Buddhism #LifeStory #Humanitarian #FatikchhariPride
মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।